কিভাবে প্রোগ্রামিং থেকে আনন্দ নিবো!

Published by DIU CPC on

যদি প্রশ্ন করা হয়, আপনি সবচেয়ে সুন্দর কোথায় বেড়াতে গিয়েছেন? একটু চিন্তা করুন, ভেবে উত্তর দিন।

উত্তর হিসেবে আপনার মাথায় হয়তো আসবে সাজেক, নীলগিরি, বান্দরবন, সিলেট, কক্সবাজার বা সেন্টমার্টিন এর মত জায়গার নাম। যাদের দেশের বাইরে যাবার সুযোগ হয়েছে, তারা হয়তো বলবেন থাইলেন্ডের অথবা প্যারিস ভ্রমন ছিলো আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ট্রিপ। যদি এখন প্রশ্ন করি যদি আপনার সেখানে গিয়ে যদি এতই ভালো লেগে থাকে, তাহলে প্রতিদিন কেন সেখানে যান না? এক লাইনে উত্তর হবে “ভাই এত টাকা নাই!” এবং পাশাপাশি আরেকটা উত্তর আসবে “প্রতিদিন এত দূর জার্নি সম্ভব না” কোথাও বেড়াতে যেতে হলে তার জন্য যে টাকাটা লাগবে সেটা আপনাকে আগে উপার্জন করতে হবে।

কোন একটি জিনিস যতই আনন্দের হোক না কেনো সেই আনন্দটা আপনাকে উপার্জন করে নিতে হয়। উপার্জন করে না নিলে সে জিনিসটার পাওয়ার যত ইচ্ছাই থাকুক, জিনিসটা যত আনন্দেরই হোক না কেনো, তা কিন্তু কখনই হাতের নাগালে আসবে না। আজকের বিষয়টাও সেটাই, প্রোগ্রামিং থেকে ফান পেতে হলে তা আর্ন করে নিতে হবে। বলা হয়ে থাকে কোনো কাজ যদি আনন্দ নিয়ে করা যায়, তাহলে সারা জীবনটাই আপনার জন্য ভ্যাকেশন।

প্রোগ্রামিং এর ক্ষেত্রে এটি মনে হয় একটু বেশীই সত্য। ভালো প্রোগ্রামাররা কখন অফিসে ঢুকে, কখন অফিস থেকে বের হয়, তার কোনো হুশ থাকে না। এমন একটি জীবন কে না চায়? যে তার বাকি জীবনটাই ভ্যাকেশনে কাটবে? যা কাজ করবেন, সেটাকে কাজ বলে মনে হচ্ছে না, কষ্ট বলে মনে হচ্ছে না। “ফান” টা আসলে তখনই আসে,যখন ফানটা ঐ পর্যায়েই পাওয়া যায়। এখন
কথা হচ্ছে, যদি ঐ পর্যায়ে যেতে চান তাহলে তা অর্জন করে নিতে হবে এখনই। আগের উদাহরণে ফিরে যাই, ধরা যাক আপনি সাজেক যেতে চান, সেখানে যেতে হলে প্রথমে আপনাকে বেশ কিছু টাকা উপার্জন করে নিতে হবে এবং একটা লম্বা পথ পাড়ী দিতে হবে।

যখন আপনি এই লম্বা পথ পাড়ী দিবেন, তখন আসল আনন্দটা পাবেন, এর আগে না। আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয়,হাতিরঝিল বেড়াতে যাবেন, না কক্সবাজার বেড়াতে যাবেন? আপনি নিঃসন্দেহে কক্সবাজার পছন্দ করবেন। যদি প্রশ্ন করা হয় আপনি কক্সবাজার বেড়াতে যাবেন না প্যারিস বেড়াতে যাবেন? আপনি এখানেও প্যারিস পছন্দ করবেন। কেনো? খেয়াল করে দেখেন, যত দূরের পথ, আনন্দটা ততই বেশী। আপনার হাতিরঝিলে গিয়ে যতটুকু ভালো লাগবে, তার চেয়ে কয়েকগুন বেশী ভালো লাগবে প্যারিস গিয়ে। কারন প্যারিসে যাবার সুযোগটা অর্জন করতে আপনার লম্বা পথ পাড়ী দিতে হয়েছে। বাসার পাশের বালুর স্তুপে উঠে যতটুকু মজা পাবেন, তার চেয়ে বেশী মজা পাবেন কেওকার্ডং এ উঠে।

কেওকার্ডং এর চেয়েও অনেকগুন বেশী মজা পাবেন যদি এভারেস্টে উঠতে পারেন। পার্থক্যটা কোথায়? পার্থক্যটা স্ট্রাগলে। যত লম্বা আর কষ্টের পথ, আনন্দটাও তত বেশী। প্রোগ্রামিং থেকে যদি “ফান” পেতে চান, তাহলে সেটা সম্ভব। এটা একটি লাইফ টাইম ফান কিন্ত সেটা এত সহজে আসবে না। এটা একটি গ্রাজুয়াল প্রসেস। সময় লাগে, পরিশ্রম লাগে। যদি এমন হতো যে আমরা শুধু এমন ব্লগ পোস্ট পড়ে যাবো, সেমিনার করে যাবো, কথা বলে যাবো আর কোনো এক ম্যাজিকে আপনি প্রোগ্রামিং এর ফানটা পেয়ে গেলেন। আর বাকি জীবন সেই “ফান” দিয়েই কাটিয়ে দিলেন।

বিশ্বাস করুন, তাহলে আমরা সারা জীবন সেটাই করতাম। কিন্তু সেটা আসলে সত্য নয়। সেমিনারে গিয়ে কথা শুনে আসলে ভালো প্রোগ্রামার হওয়া যায় না। প্রোগ্রামিং এর আনন্দটা, প্রোগ্রামিং ফানটা পাওয়া যায় না।সাধারণত ৩ ধরনের স্টূডেন্ট দেখা যায়। প্রথম ধরণেররা প্রোগ্রামিং এর আনন্দটা বুঝতে শুরু করে দিয়েছেন, তারা লেগে থাকতে পারেন। নিয়মিত প্রোগ্রামিং করেন, পরিশ্রম দেন। তৃতীয় ক্যাটাগোরির যারা তারা কখনই প্রোগ্রামিং পছন্দ করেন নাই, করেন না, এটা তাদের ভালো লাগে না। কিন্তু আমাদের ফোকাস গ্রপ যেটা সেটা হলো দ্বিতীয় গ্রপ, তারা প্রোগ্রামিং এ মজাটা পান, কিন্তু ধীরে ধীরে ট্র্যাকলেস হয়ে যান, ঝড়ে পরেন মাঝ রাস্তায় গিয়ে। তাদের জন্য বলা, যে মাঝে মধ্যে আনন্দটা সরাসরি পাওয়া যাবে না। ঠিক যেমন সাজেকের রাস্তার মত, রাস্তার জার্নিতে আনন্দটা থাকে না সবসময়।

কিন্তু ডেস্টিনেশনে পৌছে গেলে সেখানকার আনন্দটা সীমাহীন। গাধার সামনে মূলা ঝুলালে গাধা সামনে আগায়। সাথে সাথে গাড়ীও আগায়, একসময় গাধা ও মনিব দুজনই গন্তব্যে পৌছে গেলে, মনিব গাধাকে মূলার পুরো বস্তা দিয়ে দেয় যাতে সে খেয়ে দেয়ে হৃষ্টপুষ্ট হতে পারে। আপনার সামনেও সেই মূলা ঝুলাতে হবে, মূলার দিকে তাকিয়ে এগিয়ে যেতে হবে, এবং মাথায় রাখতে হবে মূলাটা অর্জন করে নিতে হবে আপনাকে। এমনি এমনি প্রোগ্রামিং হয়ে যাবে না। এর জন্য একটু হলেও কষ্ট সহ্য করতে হবে। আর সেটা করতে পারলে সামনে অপেক্ষা করছে সীমাহীন আনন্দ।

শেষ কথা হিসেবে বলি। আনন্দ বা ফান এর পিছনে দৌড়ানো ভালো, কিন্তু রাস্তাটা যাতে সঠিক হয়। ফেসবুকিং, ম্যাসেজিং, প্রেম, মুভি দেখা, খেলা দেখা, ট্যুর দেয়া, এগুলো অবশ্যই আপনাকে আনন্দ দিবে। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে যেনো এগুলোর মূল্য খুব বড় কিছু হয়ে না যায়। এসব খুচরা ‘ফান’ এর পিছনে দৌড়াতে গিয়ে যেনো সারাজীবনের আনন্দটা নষ্ট না হয়। ফানটা সারা জীবন ধরে রাখার জন্য এই ৪ বছর কষ্ট করে সেটা আর্ন করতে হবে। সেটা করতে পারলে বাকি সারাজীবন সেখান থেকে ফান পেতে থাকবেন।

মোঃ হাফিজুর রহমান আরফিন
৪৩ ব্যাচ, সিএসই


0 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *