ক্রিপ্টোকারেন্সিঃ ভবিষ্যতের মুদ্রা

Published by Abdullah Al Ryan on

সাম্প্রতিক কালে একটি শব্দ আমরা প্রায়ই শুনি তা হল বিটকয়েন। বিটকয়েন সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের প্রথমে জানতে হবে ক্রিপ্টোকারেন্সি কি । ক্রিপ্টোকারেন্সি পুরো বিশ্বে একটি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পৃথিবীর যেকোনো দেশের ব্যাংকের জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি একটি দুঃস্বপ্নের বিষয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও তাদের লেনদেন ক্রিপ্টোর মাধ্যমে করতে রাজি নয়। পৃথিবীর অনেক দেশে ক্রিপ্টোকারেন্সিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে  বাংলাদেশ ব্যাংকও বিটকয়েনের মাধ্যমে লেনদেনের উপর সতর্কতা জারি করে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। 

ক্রিপ্টোকারেন্সি কি 

ল্যাটিন শব্দ ক্রিপ্টোস (kryptos) এর অর্থ হচ্ছে ‘লুকানো’, দ্বিতীয় অংশ হচ্ছে কারেন্সি যা মূলত একধরনের টোকেন যার নির্দিষ্ট একটি মূল্য রয়েছে যা দিয়ে পণ্য বা সার্ভিস কেনা যায়।

ক্রিপ্টোকারেন্সি এর শাব্দিক অর্থ নিরাপদ ও লুকায়িত মুদ্রা ব্যবস্থা । ক্রিপ্টোকারেন্সি এক ধরনের সাংকেতিক বা ডিজিটাল মুদ্রা যার কোন বাস্তব রূপ নেই । এই কারেন্সি কোন সরকার বা রাষ্ট্র উৎপাদন বা জোগান দেয় না। এটি একটি কম্পিউটার এ্যলগোরিদম টেকনোলজি। ক্রিপ্টোগ্রাফিক কোডের মাধ্যমে এটিকে তৈরি করা হয়েছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং

ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং হল সাধারনভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেনে ট্রেড করা। এখানে আপনি বিটকয়েন, বা এ জাতীয় ক্রিপ্টো মুদ্রা দিয়ে – পণ্য বা সার্ভিস ক্রয় এবং বিক্রয় করতে পারবেন। মাইনিং করা ব্যতিত, ক্রিপ্টো ট্রেডিং করার মাধ্যমেই আপনি ক্রিপ্টোকারেন্সির দুনিয়ায় সম্পৃক্ত হতে পারবেন।

ক্রিপ্টোকারেন্সির সুবিধা

  1. ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেনে কোনো তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন পরে না। যদি ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে লেনদেন করা হয়, তবে ব্যাংকের কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ এই লেনদেন সরাসরি গ্রাহক-প্রেরকের মধ্যেই হয়ে থাকে। ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে এই লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে থাকে। তাই কে কার কাছে এই ডিজিটাল মুদ্রা বিনিময় করছে তা অন্য কেউ জানতে পারে না। আবার পরিচয় গোপন রেখেও এটা দিয়ে লেনদেন করা যায়। তবে এর এনক্রিপটেড লেজার সব লেনদেনকে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া থেকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই মুদ্রাব্যবস্থার কোনো কেন্দ্রীয় রূপ নেই, এখানে সম্পূর্ণ বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে। এটাকে সরাসরি ক্রেতা-বিক্রেতার (পিয়ার-টু-পিয়ার) নেটওয়ার্ক বলা যায়। 
  2. বিটকয়েনের ফলে এক মুহূর্তে যে কেউ উগান্ডা থেকে চীনে মুদ্রা পাঠিয়ে কোনো কিছু কিনতে পারবে। কোনো ব্যাংকের ব্যাপার নেই, কোনো মুদ্রা বিনিময় হারের ব্যাপার নেই। মধ্যবর্তী কোনো সংস্থা নেই। 
  3. এই মুদ্রা ত্বরিত এক দেশ থেকে আরেক দেশে চলে যেতে পারে। বিটকয়েনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট লাগছে। কিন্তু অন্যান্য ক্রিপ্টো মুদ্রা আরও কম সময়ে হাত বদল হতে পারে। অথচ বর্তমান মুদ্রা স্থানান্তর ব্যবস্থায় এক দেশ থেকে আরেক দেশে যেতে কয়েক দিন লেগে যায়!
  4. এই মুদ্রা একজনের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে পাঠাতে নামমাত্র খরচ লাগে। এটি আবার পাঠানো অর্থের পরিমাণের ওপর নির্ভরশীল নয়। একটি বিটকয়েন আর এক লাখ বিটকয়েন পাঠাতে একই খরচ!  বর্তমান মানি ট্রান্সফারে বেশ অর্থ ব্যয় হয়।  
  5. ক্রিপ্টো মুদ্রার লেনদেন জাল করা যায় না। একবার ট্রান্সফার হয়ে গেলে ওটাকে কোনোভাবে ফিরিয়ে নেওয়া বা পরিবর্তন করা যায় না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, হাজার হাজার মেশিনে এটা লিপিবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই লেনদেন অপরিবর্তনীয়।
  6. ক্রিপ্টো মুদ্রার কোনো মুদ্রাস্ফীতি নেই। এই মুদ্রার সংখ্যা পূর্বনির্ধারিত, তাই টাকার মতো তা আরও ছাপানো যায় না। বিভিন্ন দেশ প্রকাশ্যে বা গোপনে তাদের মুদ্রা বেশি ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে, ফলে মুদ্রা যুদ্ধ শুরু হয়ে যাচ্ছে। ক্রিপ্টো মুদ্রায় এটি একেবারেই অসম্ভব। বিটকয়েনের সর্বোচ্চ সংখ্যায় ২ দশমিক ১ কোটিতে নির্ধারিত করা আছে।

এখন প্রশ্ন জাগতে পারে কেন  ক্রিপ্টোকারেন্সিকে ব্যাংক বৈধতা দিচ্ছেনা; তার উত্তর হচ্ছে-

সাধারণত ব্যাংকগুলো নিজেদের লাভ করে থাকে গ্রাহকদের লেনদেন এবং অন্যান্য সেবাদানের মাধ্যমে। অর্থাৎ, গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে আর্থিক বিষয়াদি পরিচালনার জন্য যে সেবা লাভ করবে সেই সেবা দানের একটি মূল্য নির্ধারণ করে ব্যাংক। সেখান থেকে যে অর্থ আসে তা থেকে ব্যাংকগুলো নিজেরা লাভ করে থাকে। ক্রিপ্টোকারেন্সি চালু হয়ে গেলে ব্যাংকের প্রয়োজন পড়বে না। তখন কিন্তু ব্যাংক নামক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানটি একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়তে পারে। এছাড়া যেকোনো লেনদেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি নজর থাকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নজরদারির ফলে কালো টাকা, বেআইনি লেনদেন ইত্যাদি অনেকাংশেই কম হয়ে থাকে। এসব কারণেই মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ক্রিপ্টোকারেন্সির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনে অনলাইন হ্যাকিংয়ের ভয় কম। ক্রিপ্টোর মাধ্যমে লেনদেনে যে বিকেন্দ্রীকরণের (Decentralise) কথা বলা হয়, সেটা মেনে না নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। উন্নত দেশ কিন্তু এভাবেই ক্রিপ্টো ব্যবহার করছে।


ক্রিপ্টোকারেন্সির উদাহরণ

আমরা  টাকা  আদান-প্রদানের জন্য ব্যাংকের সাহায্য নেই, মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট,নগদ) বা কুরিয়ার ও পোষ্ট অফিসের মাধ্যমেও আর্থিক লেনদেন করে থাকি। এ প্রক্রিয়ার জন্য সার্ভিস চার্জ আদায় করে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ক্রিপ্টোকারেন্সিতে তৃতীয় পক্ষের কোন প্রয়োজন হয় না বিধায় এর কোন বাড়তি চার্জও নেই।
মার্কেটে বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি আছে। যেমন-  
বিটকয়েন , ইথেরিয়াম , লাইটকয়েন, রিপল, মোনেরো, ড্যাশ, বাইটকয়েন, ডোজকয়েন ইত্যাদি। তবে এগুলোর মধ্যে বিটকয়েন সবার পূর্বসূরি ও সবচেয়ে পরিচিত। মূলত এর সফলতার কারণেই আরো প্রতিদ্বন্ধী কারেন্সির জন্ম হয়।

ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাস 

১৯৮৩ সালে আমেরিকান ক্রিপ্টোগ্রাফার ডেভিড চৌম ক্রিপ্টোগ্রাফিক পদ্ধতিতে ডিজিটাল উপায়ে টাকা আদান প্রদানের বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেন। যার নাম দেন ই-ক্যাশ। ১৯৯৫ সালে, তিনি ডিজিক্যাশের মাধ্যমে এটি একটি ক্রিপ্টোগ্রাফিক ইলেকট্রনিক পেমেন্টের প্রাথমিক ফর্ম বাস্তবায়নের দিকে এগুতে থাকেন। পরবর্তীতে সফটওয়ারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট এনক্রিপটেড কীগুলি ইনপুটের পর প্রাপক প্রেরণকারীর অর্থ পান। 

বিটকয়েনের ইতিহাস

২০০৯ সালে জাপানের একজন ব্যক্তি, নাম সাতোশি নাকামোতো, তিনিই বিটকয়েন তৈরি করেন। তিনি নিজের পরিচয় গোপন রাখেন। আজ অবধি তাকে কেউ দেখেনি এবং তিনি বেঁচে আছেন কিনা তাও কারো পক্ষে বলা সম্ভব নয়। নাম ছাড়া তার আর কোন পরিচয় জানা নেই। আর তার নামেরই একটা অংশ বিটকয়েন। অর্থাৎ আমার ১ টাকার ভাংগা সংখ্যাকে (০.০৫ পাঁচ পয়সা) যেমন পয়সা বলি ঠিক তদ্রুপ বিটকয়েন এর শুন্য দশমিক এর পরের সংখ্যা গুলোকে সাতোশি বলা হয়।

লাইটকয়েন

২০১১ সালে বিটকয়েনের মতই লাইটকয়েন তৈরী হয়, তবে এর লেনদেন আরো দ্রুততর। এর আছে পৃথকীভূত উইটনেস এবং লাইটনিং নেটওয়ার্ক সহ আরো নানা সুবিধা, যা একে দিন দিন আরো জনপ্রিয় করে তুলছে। 

ইথেরিয়াম

২০১৩ সালে ইথেরিয়াম চালু হলেও, জনপ্রিয়তায় ইহা লাইটকয়েনকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। বর্তমানে বিটকয়েনের পরে, ইথেরিয়ামই সর্বাধিক ব্যবহৃত ক্রিপ্টোকারেন্সি। ইথেরিয়ামের লেনদেন অধিক দ্রুততর। এতে আছে স্মার্ট কন্টাক্ট সুবিধা সহ “যদি-অতঃপর” চুক্তির ব্যবস্থা।

বিটকয়েন কিভাবে তৈরি হয়?

বিটকয়েন উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন  কম্পিউটারের মাধ্যমে তৈরি করা হয় যাকে মাইনিং বলা হয়। যার মূল চালিকা শক্তি GPU । Graphics শব্দটির মাধ্যকে অনেকটাই বুঝা যায়, কারন আমরা এই শব্দটির সাথে বেশ পরিচিত। বিটকয়েন তৈরি পদ্ধতিকে বলা হয় মাইনিং আর যারা এই মাইনিং করে তাদের বলা হয় মাইনার।

যারা বিটকয়েন মাইনিং করেন তারা একটা কমিশন পান। আর এই মাইনারই যেসব বিটকয়েন ট্রান্জেকশন করা হয় তা ভ্যলিড করেন বা ভ্যলিডিটি চেক করেন। অর্থাৎ আমরা যখন একজন থেকে আরেকজনের কাছে বিটকয়েন ট্রান্সফার করি তা অটোমেটিক সেই সব মাইনিং করা কম্পিউটারের সিস্টেমে চলে যায় এবং মাইনিং করা কম্পিউটার গুলো ট্রান্জেকশন এর ভ্যলিডিটি চেক করে ট্রান্জেকশন সঠিক হলে সেই ট্রান্জেকশনকে একটি ব্লকে পাঠায়। যেটিকে ব্লকচেইন সিষ্টেম বলে। 

বিটকয়েনের নিরাপত্তা


সাতোশি নাকামোতো তার “Bitcoin: A Peer-to-Peer Electronic Cash System” নামক গবেষণা প্রস্তাবনাতে বিটকয়েনের নিরাপত্তার ব্যাপারে বলেছিলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত  বিটকয়েন নেটওয়ার্কে সংযুক্ত বেশিরভাগ কম্পিউটারের কোন আক্রমণে সহযোগিতা করবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা সবচেয়ে লম্বা ব্লক চেইন তৈরি করবে এবং আক্রমণকারীদের থেকে এগিয়ে থাকবে”।

আপাতদৃষ্টিতে ক্রিপ্টোগ্রাফির  নিরাপত্তার সুরক্ষিত হওয়ার বদৌলতে ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের নিরাপত্তা খুব মজবুত অবস্থায় আছে। বিটকয়েন মাইনিং-এ হ্যাশ ফাংশন SHA-256 ব্যবহার করার কারণে বিটকয়েন নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভাঙা সম্পূর্ণটায় অসম্ভব। অন্যভাবে বললে, বিটকয়েন নিজে হ্যাকিং-এর কবলে পড়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে অন্যকিছু কারণে বিটকয়েনের স্টোরেজের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে চলে আসে।

বিটকয়েনের অসুবিধা

অনেক ক্ষেত্রে প্রাইভেট কি (Key) অনেক বড় হওয়ার কারণে বিটকয়েন ব্যবহারকারী তার পাসওয়ার্ডটি ভুলে যেতে পারে। এক্ষেত্রে কোন উপায়ে বিটকয়েন পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। আর পাসওয়ার্ডটি লিখে রাখা অথবা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করাই হচ্ছে একমাত্র উপায়।

যেখানে ফিজিক্যাল স্টোরেজে বিটকয়েন সংরক্ষিত করা থাকে সেটি চুরি হয়ে যেতে পারে। আর  চোরের যদি বিটকয়েন সম্পর্কে জ্ঞান থাকে  তাহলে সে এক সময় স্টোরেজে সংরক্ষিত বিটকয়েন ব্যবহার করতে পারে। বিটকয়েনের অনলাইনে স্টোরেজ হ্যাকারদের শিকারের কবলে পড়তে পারে। যে কম্পিউটারে বিটকয়েন সংরক্ষিত আছে, সেটি হ্যাকিং-এর শিকার হতে পারে। কোন একটি ম্যালওয়ার পাঠিয়ে বিটকয়েনের ফাইলগুলো খুঁজে বের করে, অতপর ম্যালওয়ার তথ্যগুলো নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠাতে পারে। সুতরাং কম্পিউটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার করা হ্যাকিং-এর কবল থেকে রক্ষা করতে পারে।

বিটকয়েনের মূল্য অনেক বেশি অস্থির। কারণ এর চাহিদা খুব দ্রুত গতিতে বাড়ছে এবং পরিমাণ সীমাবদ্ধ। তবে আশা করা যায় সময়ের সাথে এই পরিস্থিতি শিথিল হয়ে যাবে।

বিটকয়েনের এত মূল্য কেন?

সম্প্রতি বিটকয়েনের অবিশ্বাস্য মূল্য বিস্ফোরণে সবার টনক নড়েছে। কেউ আর একে হেলাফেলা করতে পারছেন না। বিটকয়েনের মূল্য বাড়ার বেশ কিছু কারণ আছে বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—

  1. মনে করা হচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতে পৃথিবীজুড়ে সবাই ক্রিপ্টো মুদ্রা ব্যবহার করবে। এটিকে এভাবে বোঝানো যায়, কেউ যদি ২০ বছর আগে বলত, পৃথিবীজুড়ে সবাই মুঠোফোন ব্যবহার করবে, সেটা হয়তো তখন খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হতো না। এখানেও ঠিক তেমনটি ঘটছে বলে অনেকেই মনে করছেন। 
  2. বিটকয়েনের সংখ্যা সীমিত। তাই একটি বিটকয়েনের দাম অনেক বেশি হলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ, পৃথিবীর সব সম্পদ ওই সীমিত বিটকয়েন দিয়ে কিনতে হবে, তাই একেকটির দাম হবে গগনচুম্বী।

আজকের দিনে 1 বিটকয়েন সমান 8,16,75,352 বাংলাদেশি টাকা

বিটকয়েনে বিনিয়োগঃ

বিটকয়েনে বিনিয়োগ অনেকটা সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করার মতো। বিগত ৭-৮ বছর ধরে বিনিয়োগকারীরা বিটকয়েনে বিনিয়োগ করে অনেক ভাল রিটার্ন পেয়েছে, যেমনটা অন্য কোনো  বিনিয়োগে বর্তমান সময়ে পাওয়া যায় নি। ধারণা করা হয়, আপনি যদি ৭-৮ বছর আগে বিটকয়েনে মাত্র ৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতেন, তাহলে বর্তমানে সেই বিনিয়গের অর্থ ৫০০ কোটি টাকা হতো।

বিটকয়েনে ট্রেডিং:

বিটকয়েন দিয়ে বর্তমানে অনেক কিছুই কেনা যায়। যেমন ওভারস্টক ডট কম থেকে যেকোনো পণ্য বিটকয়েনের মাধ্যমে কেনা যাবে। এমন আরও অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বর্তমানে বিটকয়েনকে মুদ্রা হিসেবে নিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এখন যেমন অর্থের বদলে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার হচ্ছে, ভবিষ্যতে তেমনি টাকা ও ক্রেডিট কার্ডের বদলে বিটকয়েন বা অন্য কোনো সাংকেতিক মুদ্রা ব্যবহৃত হবে। বিটকয়েনের আকর্ষণীয় তৃতীয় ব্যবহারটি হলো ‘মাইক্রোপেমেন্ট’ বা আল্ট্রাস্মল পেমেন্ট (অতিক্ষুদ্র পরিমাণের মুল্য পরিশোধ)।

ক্রিপ্টোকারেন্সি চিপ বানাচ্ছে স্যামসাং

ক্রিপ্টোকারেন্সির জন্য বিশেষ চিপ বানাচ্ছে দক্ষিণ কোরীয় ইলেকট্রনিক জায়ান্ট স্যামসাং। নিজেদের সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির লাভ বেড়েছে মর্মে এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সেই সঙ্গে ২০১৭ সালে চিপ নির্মাণ খাতে প্রতিষ্ঠানটি মার্কিন চিপ জায়ান্ট ইনটেল-কে ছাপিয়ে গেছে বলেও নিশ্চিত করেছে এই প্রতিবেদন, খবর বিবিসি’র।

ক্রিপ্টোকারেন্সির ভবিষ্যৎ

সিলিকন ভ্যালি ভিত্তিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম Andreessen Horowitz-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মারক এন্ড্রেসসেন ২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারি নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত “Why Bitcoin Matters” শিরোনামে এক উপ-সম্পাদকীয়তে বিটকয়েনের ভবিষ্যত তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য Andreessen Horowitz জানুয়ারিতে বিটকয়েন সম্পর্কিত স্টার্ট-আপগুলোতে ৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে এবং বর্তমানে তারা আরো বিটকয়েন ভিত্তিক বিনিয়োগ সুযোগের অনুসন্ধান করছে। ফেসবুকের লিব্রা ক্রিপটোকারেন্সি আনার ঘোষণা দেওয়ায় অনেকেই এখন ক্রিপটোকারেন্সিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

এন্ড্রেসসেন তার লেখাতে বলেন, বিটকয়েন ভিত্তিক উদ্ভাবনের একটি অবশ্যম্ভাবী এবং বিশাল ক্ষেত্র হচ্ছে আন্তর্জাতিক রেমিটেন্স। প্রতিদিন অল্প আয়ের শত শত মিলিয়ন মানুষ টাকা উপার্জনের জন্য কঠিন কাজে অন্য দেশে যায় এবং পরবর্তীতে সেই টাকা নিজ দেশে বসবাসরত পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেয়। বিশ্বব্যাংকের মতে, এই মানুষগুলো প্রতিবছর ৪০০ বিলিয়ন ডলার  রেমিট্যান্স পাঠায়। প্রতিদিনের ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক  প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠানো টাকার ১০ শতাংশের মত, কখনোবা ভয়ঙ্কর রকমের বেশি একটা ফি কেটে রাখে। রেমিট্যান্স পাঠাতে বিটকয়েন ব্যবহার করলে কোন ফি বা চার্জ দিতে হবে না,  হলেও সেটির পরিমাণ খুব কম। তাছাড়া, বিটকয়েন বিশ্বের বড় একটি সংখ্যার জনগোষ্ঠীকে একটি আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার  অধীনে আনার জন্য স্বাভাবিকভাবেই একটি বড় শক্তি হতে পারে।

এছাড়া হয়তো এমন একদিন আসবে যখন বাইরের দেশের সাথে বাণিজ্য করতে হলে এই ক্রিপ্টো দিয়েই করতে হবে।

বাংলাদেশে বিটকয়েন

২০১৪ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বিট কয়েন ফাউন্ডেশনে যুক্ত হয়। বিট কয়েন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সভাপতি সজীব বলেছেন:

ইতিবাচকভাবে জীবনযাত্রার উন্নতিতে কার্যকর হওয়ার জন্য, আমরা একসাথে যোগদান, আমাদের লক্ষ্যগুলি সারিবদ্ধ করা, শিক্ষিত হয়ে ওঠা এবং বিটকয়েনের গ্রহণকে উৎসাহিত করার জন্য আমাদের প্রচেষ্টার সমন্বয় সাধন জরুরি


তবে বিটকয়েনের লেনদেন সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না বলে মাদক চোরাচালান ও অর্থপাচার কাজেও এর ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। ডিজিটাল মুদ্রা হিসেবে জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে এর দরের মারাত্মক ওঠা–নামা, দুষ্প্রাপ্যতা এবং ব্যবসায়ে এর সীমিত ব্যবহারের কারণে অনেকেই এর সমালোচনা করে এবং আমাদের দেশে এর ব্যবহার অবৈধ। 

আমাদের জন্য কিছুটা ভালো খবর হচ্ছে, সরকার আধুনিক প্রযুক্তির বিষয়গুলো অনুধাবন করতে পারছে। এ কারণে ব্লকচেইনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে সীমিত আকারে কাজ শুরু হচ্ছে।


Abdullah Al Ryan

Abdullah Al Ryan

ID: 192-15-13088 Batch- 53

0 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *