পৃথিবীর  ইতিহাসের সর্ববৃহৎ কম্পিউটার প্রোগ্রামিং  প্রতিযোগিতার শুরু থেকে শেষ ! 

Published by DIU CPC on

ইন্টারন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট (আইসিপিসি) একটি বহুজাতিক ও দল ভিত্তিক  প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা। আইসিপিসিকে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতাগুলির “অলিম্পিক” হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ৬ টি মহাদেশের ১১০ টিরও অধিক দেশের প্রায় ৩০০০ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিযোগিরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

এটি সারা বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা। বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানের সফটওয়্যার ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতার পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে। আইসিপিসির সদর দপ্তর বেইলর বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত এবং এর ছয়টি মহাদেশে এর স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল রয়েছে। বেইলর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উইলিয়াম বি. পাউচার এর পরিচালক।  বিগত বছর গুলোতে এ.সি.এম এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করলেও গত বছর থেকে   বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানের সফটওয়্যার ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এর সৌজন্যে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়।

এশিয়াতে ১৮টি সাইটে এই প্রতিযোগিতার আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয় এবং ঢাকা সাইট তার মধ্যে অন্যতম। ঢাকা সাইটের প্রতি বছরের বিজয়ীরা ওয়ার্ল্ড ফাইনালে অংশগ্রহণ করে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ত্ব করে। অন্যান্য সাইটের মতো ঢাকা সাইটেও  বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানের সফটওয়্যার ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইসিপিসির আয়োজন করে থাকে।

আইসিপিসি ঢাকা সাইটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আবুল এল হকের উদ্যোগে ১৯৯৭ সালে প্রথমবারের মতো এ.সি.এম আইসিপিসির ঢাকা সাইট গঠন করা হয়। ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি দলের অংশগ্রহণে ১৯৯৭ সালের ১৮ নভেম্বর প্রথমবারের মতো ঢাকা সাইট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আইসিটি ডিভিশন ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সহযোগিতায় এবং এডিএন ইডু সার্ভিসেস ও এসএসএল ওয়্যারলেস, বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটি ও ইন্টারনেট সোসাইটি, বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সহ-পৃষ্ঠপোষকতায়  ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি  এই বছর এ প্রতিযোগিতার বাংলাদেশ পর্বের আয়োজন করে যা পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা।২০১২ সালে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রথমবার সিএসই ডিপার্টমেন্টের প্রধান  শ্রদ্ধেয় ড. সৈয়দ আখতার হোসেনের  হাত ধরে  গর্বের সাথে  এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে এবং  তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে পুনরায় ড. সৈয়দ আখতার  হোসেনের  হাত ধরে ২৯৮ টি টিম নিয়ে পৃথিবীর সব থেকে বড় আইসিপিসি রিজিওনাল কন্টেস্ট     আয়োজনের মর্যাদালাভ করে।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত আইসিপিসি ২০১৮  এশিয়া অঞ্চলের ঢাকা পর্বের প্রথম বৈঠক  ৮ সেপ্টেম্বর শনিবার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম।

বৈঠকে জানানো হয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্বাগতিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুলিয়ার স্থায়ী ক্যাম্পাসে আইসিপিসি ২০১৮ আয়োজন করতে পারা নিঃসন্দেহে সম্মান ও গৌরবের বিষয়।

বৈঠকের শুরুতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আখতার হোসেন আইসিপিসি ২০১৮ আয়োজনের পরিকল্পনা ও রূপরেখা তুলে ধরেন। বৈঠকে আইসিপিসি ২০১৮ কনটেস্ট কাউন্সিল অব বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক ও আইসিপিসি ঢাকা সাইটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. আব্দুল এল হক, আইসিপিসির কো চেয়ার ও বিচারক পরিচালক শাহরিয়ার মন্জুর, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুব উল হক মজুমদার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম ফজলুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম মওলা চৌধুরী, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ইঞ্জিনিয়ার এনামুল কবির, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রফেসর মোহাম্মদ মোস্তফা আকবর, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এম এ মোত্তালিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসনাইন হেইকল জামি, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. সাজ্জাদ হোসেন, আইইউবিএটি’র প্রফেসর ড. উৎপল কান্তি দাস, বিউবিটি’র প্রফেসর ড. আমির আলী ও সাইফুর রহমান এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও এসএসএল ওয়্যারলেসএর অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২২ তম আইসিপিসি ২০১৮, ঢাকা অঞ্চলের প্রিলিমিনারী পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ৫ অক্টোবর । বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ পর্বে  ১০১ টি সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের  সর্বমোট ১৪৮৫ (প্রতিটি দলে ৩ জন করে) টি টিম অংশগ্রহন করে। যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।  প্রতিযোগী দলগুলোকে ১০ টি প্রোগ্রামিং সমস্যার সমাধান করতে দেয়া হয়। সর্বমোট ৮ টি টিম ১০ টি সমস্যার সমাধান করে । সবচেয়ে কম সময়ে ১০ টি প্রোগ্রামিং সমস্যার সমাধান করে প্রথম স্থান অধিকার করে BUET Upside_Down. ১৪৮৫ টি টিমের মধ্যে ১৩৩২ টি টিম কমপক্ষে একটি করে সমস্যার সমাধান করে ।

Team RankTeam NameInstitutionTotal Solve
1stBUET Upside_DownBangladesh University of Engineering and Technology10
2ndBUET_BloodHoundBangladesh University of Engineering and Technology10
3rdDU_EpinephrineUniversity of Dhaka10
4thBUET KnightMareBangladesh University of Engineering and Technology10
5thDU_bitsetForceUniversity of Dhaka10
6thSUST_DescifradorShahjalal University of Science and Technology10
7thBUET Glitch In The SystemBangladesh University of Engineering and Technology10
8thDU_SimplexityUniversity of Dhaka10
9thIOI_WerewolfBangladesh University of Engineering and Technology9
10thIUT_ReverseFlashIslamic University9

Top 10 team of  ICPC Dhaka Regional Online Preliminary Contest

প্রিলিমিনারি পর্বের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে সম্মানিত বিচারকগন ১০১ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯৮ টি টিম বাচাই করে। বাছাইকৃত এই ২৯৮ টি টিম(প্রতিটি দলে ৩ জন করে) নিয়েই ২২ তম এসিএম আইসিপিসি ২০১৮ ঢাকা পর্বের ফাইনাল আয়োজন করা হয়। নেপাল থেকে তিনটি দল এবারের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

পুরো প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান ৯-১০ নভেম্বর ২ দিন ব্যাপী চলতে থাকে। প্রথম দিনে প্রতিযোগিরা  রেজিস্ট্রেশন করে তাদের কিট সংগ্রহ করে এবং মক কন্টেস্ট পর্বে অংশগ্রহণ করে । মক পর্বে ১ ঘন্টায় সর্বমোট ৪ টি সমস্যা সমাধান করতে দেওয়া হয় । ২ টি টিম নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৪ টি সমস্যা সমাধান করে । সবচেয়ে কম সময়ে DU_Simplexity  সব-গুলো সমস্যা সমাধান করে প্রথম স্থান অধিকার করে।

১০ নভেম্বর শনিবার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্বাধীনতা মিলনায়তনে আইসিপিসি ২০১৮  এর ২২তম আসরের মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হয় । সকাল ১০ টার মধ্যে প্রতিযোগিরা সবাই স্বাধীনতা মিলনায়তনে উপস্থিত হয় এবং নির্ধারিত আসন গ্রহণ করে । অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, গীতা পাঠ , জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

প্রধান অতিথি হিসাবে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী,  হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ম্যাডাম হোসনে আরা বেগম, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলেরর নির্বাহী পরিচালক পার্থ প্রতিম দেব, বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটি ও ইন্টারনেট সোসাইটি  (আইসক) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার এর প্রফেসর হাফিজ মোঃ হাসান বাবু, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ইঞ্জিনিয়ার এনামুল কবির, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির স্কুল অব সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর ডীন অধ্যাপক আবুল এল হক, সিটিও ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তপন কান্তি সরকার, এসএসএল ওয়ারলেসের চীফ অপারেটিং অফিসার আশিস চক্রবর্তী, চীফ টেকনিক্যাল অফিসার শাহাজাদা রিদওয়ান এবং ডাটাসফট্ সিস্টেমস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহাবুব জামান প্রমুখ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডঃ এস এম মাহাবুবুল হক মজুমদারের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন কনটেষ্ট ডিরেক্টর অধ্যাপক ডঃ সৈয়দ আখতার হোসেনও কনটেষ্ট এর প্রধান বিচারক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আইসিপিসি প্রতিযোগিতাটি আমাদের তরুণদের সামনে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করার এক বিশাল সুযোগ এনে দিয়েছে। অনেকে বলে থাকে, এই প্রতিযোগিতা হচ্ছে, মানুষ ও মেশিনের মধ্যে প্রতিযোগিতা। ব্যক্তিগতভাবে আমি তা মনে করি না। আমি মনে করি, মানুষের চেয়ে মেশিন কখনো উন্নত হতে পারে না।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর বলেন, “একসঙ্গে এত তরুণ প্রতিযোগী দেখে আমি খুবই আনন্দিত। আমার মনে পড়ছে ২০ বছর আগের কথা। তখন এরকম একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু পর্যাপ্ত ল্যাপটপের অভাবে আয়োজনটি মনের মতো করে করতে পারিনি। আজ এই প্রতিযোগিতায় কত ল্যাপটপ রয়েছে গুণে শেষ করা দুষ্কর।”

বাংলাদেশের তরুণদেরকে মেধাবী প্রজন্ম উল্লেখ করে অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী আরো বলেন, বিশ বছর ধরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত থাকার ফলে আমি জানি, এই তরুণরা কী পরিমাণ মেধাবী। এই প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা তরুণদের মেধাকে আরো শাণিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান বলেন, ‘বর্তমান সময় হচ্ছে প্রযুক্তির সময়। এই সময়ে প্রযুক্তির জ্ঞান থেকে দূরে থাকলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে হবে। আমরা চাই না আমাদের শিক্ষার্থীরা কোনো প্রতিযাগিতায় পিছিয়ে পড়ুক। এজন্য ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীদেরকে প্রযুক্তির জ্ঞানে দক্ষ করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

ড. মো. সবুর খান আরো বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পেরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অবশ্যই গর্ববোধ করছে। এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে ২৯৮টি দল অংশগ্রহণ করেছে। আগামীতে আইসিপিসির ওয়ার্ল্ড ফাইনাল প্রতিযোগিতা ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সকাল ১১.৩০ টা থেকে বিকাল ৪.৩০ টা পর্যন্ত একটানা পাঁচ ঘন্টা ধরে প্রোগ্রামারদের লড়াই চলতে থাকে  ।প্রতিযোগিতার শুরুতেই DU_Pantabat সর্বপ্রথম ১ টি সমস্যার সমাধান করে । প্রতিযোগিদের সেবায় কন্টেস্ট ফ্লোরে DIU CPC থেকে প্রায় ৫০ জনের অধিক সেচ্ছাসেবক কর্মরত ছিল। ট্যেকনিক্যাল  যে কোন সমস্যা সমাধানে ড্যাফোডিল আইটি’র  আইটি এক্সপার্টগন সর্বদা প্রস্তত ছিল। প্রতিযোগী দলগুলোকে ১০ টি প্রোগ্রামিং সমস্যার সমাধান করতে দেয়া হয়। প্রতিযোগিতায়  দশটির মধ্যে ছয়টি সমস্যার সমাধান করে চ্যাম্পিয়ন হয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের SUST_Descifrador। এই টিমের সদস্যরা হলেন শাবিপ্রবি’র কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের তিন শিক্ষার্থী মওদুদ খান শাহরিয়ার, জুবায়ের আরাফ ও অভিষেক পাল। এছাড়াও প্রতিযোগিতায় ৫টি সমস্যা সমাধান করে প্রথম রানার আপ হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের BUET_BloodHound। এই টিমের সদস্যরা হলেন মুত্তাকিন আশিকুল,আশিকুল ইসলাম ও আর্য পাল। আর তৃতীয় হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  DU_Epinephrine। এই টিমের সদস্যরা হলেন পিয়াল রেজওয়ান,রেজওয়ান মাহমুদ ও শাহেদ শাহরিয়ার। “Best Girls Team Award ICPC 2018” অর্জন করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টিম “DIU_Heuristic” । এই দলের সদস্যরা হলেন তানজিনা আফরোজ রিমি,  ইসরাত জাহান ফাতেহা ও তনিমা হোসাইন।

প্রতিযোগিতার সেরা ২টি দল(SUST_Descifrador, BUET_BloodHound ) গত ৩১ মার্চ -৫ এপ্রিল ২০১৯ পর্তুগালের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টো’র স্বাগতিকতায় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ফাইনালস ২০১৯ এর মূলপর্বে অংশগ্রহণ করে।

Team RankTeam NameInstitutionTotal Solve
1stSUST_DescifradorShahjalal University of Science and Technology6(468)
2ndBUET_BloodHoundBangladesh University of Engineering and Technology5(511)
3rdDU_EpinephrineUniversity of Dhaka5(568)
4thDU_bitsetForceUniversity of Dhaka5(599)
5thIUT_ReverseFlashIslamic University of Technology5(603)
6thDU_SimplexityUniversity of Dhaka5(613)
7thBUET Upside_DownBangladesh University of Engineering and Technology5(630)
8thUIU_RenegadesUnited International University5(636)
9thBUET Glitch In The SystemBangladesh University of Engineering and Technology5(638)
10thDU_PantaBhaatIslamic University5(677)
25thDIU_NemesisDaffodil International University3(106)
29thDIU_Beli3v3rsDaffodil International University3(148)

ICPC 2018  Top 10 teams & Top 2 Teams of DIU

সারা বাংলাদেশের  ১০১ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯৮ টি টিমের মধ্যে  সেরা ১০ টি বিশ্ববিদ্যালয়  গুলো হলো :

PositionVarsity
1stShahjalal University of Science and Technology
2ndBangladesh University of Engineering and Technology
3rdUniversity of Dhaka
4thIslamic University of Technology
5thUnited International University
6thNorth South University
7thKhulna University of Engineering & Technology
8thChittagong University of Engineering & Technology
9thAmerican International University – Bangladesh
10thDaffodil International University

২২ তম আইসিপিসি ঢাকা অঞ্চল ২০১৮ পর্বের আয়োজক হিসেবে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ১০ টি দল অংশগ্রহনের সুযোগ পায়। ১০ টি দলের অংশগ্রহণ স্বার্থক ছিল কারণ ১০ টি দলের মধ্যে ৬ টি দল প্রথম ১০০ টি দলের মধ্যে থাকতে পারার মর্যাদা লাভ করে।

PositionTeam NameTotal Solve
25DIU_Nemesis3(106)
29DIU_Beli3v3rs3(148)
66DIU_Primorial3(389)
87DIU_CaveDweller2(56)
92DIU_UnPrEdIcTaBlE2(63)
96DIU_Undefined_Error2(65)

কম্পিউটার প্রোগ্রামিং কনটেষ্ট এর  পাশাপাশি এই জমকালো আয়োজনে ছিল টেকনিক্যাল টকস, সিএসআইএস , ফান ইভেন্টস এবং পুরস্কার বিতরনী ও  মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ।

সন্ধ্যায় পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্যামসাং আর এন্ড ডি ইন্সটিটিউট বাংলাদেশের চীফ অপারেটিং অফিসার ও সিএফও ড্যানিয়েল ডকিউন কিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটি  ও ইন্টারনেট সোসাইটি ,বাংলাদেশ চ্যাপ্টার এর প্রফেসর হাফিজ মোঃ হাসান বাবু। বিশ্ববিদ্যালয়ের  ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ডঃ এস এম মাহাবুবুল হক মজুমদারের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন রিজিওনাল  কনটেস্ট ডিরেক্টর অধ্যাপক ডঃ সৈয়দ আখতার হোসেনও কনটেস্টের প্রধান বিচারক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির স্কুল অব সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর ডীন অধ্যাপক আবুল এল হক, সিটিও ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তপন কান্তি সরকার, এসএসএল  ওয়ারলেসের চীফ অপারেটিং অফিসার আশিস চক্রবর্তী, চীফ টেকনিক্যাল অফিসার শাহাজাদা রিদওয়ান এবং ডাটাসফট্ সিস্টেমস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহাবুব জামান প্রমুখ।

আমন্ত্রিত অতিথিগন অনুষ্ঠানের শুরুতে সম্মানিত বিচারকদের কে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন । পুরস্কার বিতরন ও ফলাফল ঘোষনা করার পূর্বে সম্মানিত অতিথিগন তদের সমাপনি বক্তব্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রোগ্রামিং কন্টেস্ট সফলতার সাথে আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ জানান ও প্রতিযোগিদের সফলতা কামনা  করে ভবিষ্যতে আরো ভালো করার জন্য শুভকামনা জানান।

ইন্টারন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট (আইসিপিসি) ২০১৮ সফল হওয়ার পেছনে রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আখতার হোসেন স্যারের দিকনির্দেশনা , ১৫০ জন  ভলান্টিয়ার, সিএসই বিভাগের সকল শিক্ষক শিক্ষিকা, ডিআইউ সিপিসি, স্কাউট সদস্য ও সকল কর্মকর্তা কর্মচারির অক্লান্ত পরিশ্রম।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রতিযোগিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন এবং তাদের যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করতে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট থেকে আশুলিয়া ক্যাম্পাস পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালু করেন ।

তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞান সমকালীন শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে সর্বজন স্বীকৃত আর এ বিষয়টিকে মাথায় রেখে শুরু থেকেই ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আসছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকান্ডে তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ ও ব্যবহার নিশ্চিত করেছে যাতে করে শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাকুরী বাজারের প্রতিযোগিতায় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পিছনে ফেলে নিজেদের অবস্থানকে সুসংহত করতে পারে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি একটি ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি হিসাবে নিয়মিতভাবে এ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজন করে আসছে এবং ভবিষ্যতে আরো বড় আয়োজনের পরিকল্পনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আইসটি ডিভিশন ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সহযোগিতায়  এবং স্যামসাং ও এসএসএল ওয়ারলেস এর সহ-পৃষ্ঠপোষকতায় ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্বাগতিকতায়  ২২ তম আইসিপিসি এশিয়া অঞ্চলের ঢাকা পর্বের পৃথিবীর ইতিহাসের এযাবৎ কালের সর্ববৃহৎ কম্পিউটার প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার একটি সফল ও মর্যাদাপূর্ণ সমাপ্তি ঘটল । আইসিপিসি ঢাকা অঞ্চল ২০১৮ ব্যাপক পরিসরে ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য-দিয়ে উৎসব মুখর পরিবেশে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়।

Author:  Nazmul Hasan Antor
Batch : 47
Email: nazmul15-9762@diu.edu.bd


0 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *